
কার্তিক মাসের প্রায় শেষ সময়েও বৃষ্টির দেখা নেই। অনাবৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আমন ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা ইউনুস।
শনিবার সকালে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়পুল এলাকায় প্রায় ৭ একর আমন ধানের জমিতে অনাবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সেচের মাধ্যমে জমিতে পানির ব্যবস্থা করা হয়। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা ইউনুস বলেন, “বোরো মৌসুমে পানির অভাবে যেন কৃষি আবাদ ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ উদ্যোগ। এ এলাকার প্রত্যেক কৃষকের ধানক্ষেতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “চলতি মৌসুমে জমিতে সার ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়েছি। কিন্তু পানির অভাবে ফসল হারাতে বসেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আপনারা এগিয়ে এসেছেন। এখন মনে হচ্ছে, ফসল ঘরে তুলতে পারব।”
আরেক কৃষক শহিদ উল্লাহ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে আমরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের কৃষকের পক্ষে সকল জমিতে পানি শেষ করা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে বলেন, ধানের ড্যাপ স্টেজে জমিতে পানির বিশেষ চাহিদা থাকে। কিন্তু কৃষি আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে অনাবৃষ্টির কারণে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের সেচের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
কৃষকদের আশা, সময়মতো সেচের পানি পাওয়ায় এবার আমন ধানের ফলন রক্ষা করা সম্ভব হবে।