
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক সমীকরণ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নামায় পুরো জেলায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে মাহফুজ আলমের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। উপদেষ্টা পদ থেকে সরে এসে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে স্থানীয় রাজনীতিতে বড় চমক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো—একই আসনে মাহফুজ আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তাঁর আপন বড় ভাই মাহবুব আলম মাহি। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফলে এই আসনে ভাইয়ে-ভাইয়ে রাজনৈতিক লড়াই ভোটারদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে মাহফুজ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিলেও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে রোববার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি এনসিপি কিংবা জামায়াত-এনসিপি কোনো জোটেই যোগ দিচ্ছেন না। এই ঘোষণায় তাঁর স্বতন্ত্র অবস্থান আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এই আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিএলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ) এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও মতিঝিল ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হারুন অর রশিদ।
এ ছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী মহাজোটের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়ালও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। যদিও হত্যা মামলাসহ নানা বিতর্কে জড়িত এই নেতা বর্তমানে এলাকায় অনুপস্থিত এবং ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসন এবার পরিণত হয়েছে স্বতন্ত্র বনাম দলীয় রাজনীতি, আত্মীয়তার রাজনীতি ও বিতর্কিত নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমী নির্বাচনী মঞ্চে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জোটে বিজয়—তা নিয়ে অপেক্ষা এখন রামগঞ্জবাসীর।