লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ফসলি গাছ কেটে নষ্ট করা, হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুরাদ হোসেন রায়পুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরবংশী এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এর আগেও একই জমিতে ফসল নষ্টের অভিযোগে রায়পুর থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২৬ জুন সকাল প্রায় ৯টার দিকে শাহাজাহান কবিরাজের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে প্রায় ২০০টি কলাগাছ, ৭০-৮০টি সুপারি গাছ, ৪০-৫০টি পেঁপে গাছ এবং ২০-২২টি নারিকেল গাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া গাছ থেকে কাঁচা কলা ও সুপারি নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
মুরাদ হোসেনের দাবি, বাধা দিতে গেলে তাকে ও সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলায় তিনি পায়ে গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া কয়েকজন নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক শিশুকে আছড়ে ফেলে আহত করার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসা সনদও এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহাজাহান কবিরাজ উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাজাহান কবিরাজ। তিনি বলেন, “আমি ওই জমির কাছেও যাইনি। যে ব্যক্তি জমিটি কিনেছেন, তিনিই তার জমি পরিষ্কার করতে সেখানে গিয়েছিলেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
রায়পুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।