লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, রায়পুরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৯টায় ঢাকার মনিপুরী এলাকায় সংসদ ভবনসংলগ্ন স্থানে ‘রায়পুর ক্লাব লিমিটেড’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
রায়পুরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তরুণ-যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ক্লাবটির যাত্রা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত রায়পুরের সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, সাংবাদিক ও ক্লাবের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে রায়পুরের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্যাস ও রেললাইন সংযোগ স্থাপন, খেলার মাঠ নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া রায়পুর পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের সড়ক সংস্কার, ডাকাতিয়া নদীর পৌরসভা অংশে দুটি সেতু নির্মাণ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আধুনিক পার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার মৎস্য ও প্রজনন কেন্দ্রটির সংস্কার, রায়পুর সরকারি কলেজের শিক্ষকসংকট নিরসন, প্রাচীনতম এলএম পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং একমাত্র মহিলা কলেজকে এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।
পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা পরিষদ ভবন ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের পুরোনো ভবন পুনর্নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। শিক্ষিত বেকার তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং মানসম্মত ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “নবগঠিত রায়পুর ক্লাবের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের তরুণ ও যুবসমাজের কাছে পৌঁছানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।”
তিনি আরও বলেন, “অবহেলিত রায়পুর উপজেলাকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা হবে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করব।”
ক্লাবের সদস্যরা সমাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাবেদ হোসেন বলেন, রায়পুর ক্লাবের উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ক্লাবের ভালো কাজ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
পুলিশের ডিআইজি শাহ আলম বলেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব। রায়পুরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি মেঘনা উপকূলীয় এ জনপদের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রায়পুর ক্লাবের মতো উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
ঢাকার রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন ও ব্যবসায়ী রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পুলিশের ডিআইজি (এসবি) সেলিম হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি জহির হোসেন, ব্যাংকার জাকির হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদ হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রায়পুরের উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অতিথিরা।