
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, নির্মাণাধীন ভবনের ফিলার ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রহমত উল্লাহ বাবলু, তার মা নুরের নাহার ও বোন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত রহমত উল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাইচা গ্রামের সাহাদ উল্যাহ পণ্ডিত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নুরের নাহার বাদী হয়ে রায়পুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতঘর নির্মাণের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল। আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও পরবর্তী রায়ের পর নুরের নাহারের পক্ষ কাজ শুরু করে। শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের দুটি ফিলার ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে রহমত উল্লাহ বাবলুকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নুরের নাহার ও তার মেয়েকেও মারধর করা হয়। এতে তারা আহত হন। হামলায় রহমত উল্লাহর মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত এবং ডান চোখে জখম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়ের গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রহমত উল্লাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষে আকবর বেপারী বাড়ির মৃত বাদসা মিয়া হুমায়ুনকে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেন। তাদের দাবি, রাতে জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করতে গেলে তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন হুমায়ূন। এত তার গাল ও হাত খেটে যায়। তাকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
রায়পুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।