লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া চানমিয়া পাটোয়ারী বাড়িতে তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিপন নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত তিন দিন ধরে তালাবদ্ধ ঘরের সামনে খোলা আকাশের নিচে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রিপনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। প্রায় সাত মাস আগে রিপন প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়।
ফাহিমার অভিযোগ, প্রবাসে থাকাকালে রিপন অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে ঢাকার এক নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি ফাহিমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, তার স্বামী প্রায়ই বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হতো। এমনকি তার ননদও নির্যাতনে সহযোগিতা করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফাহিমা জানান, সর্বশেষ কয়েকদিন আগে রিপন ও তার বোন তাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে এসে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার সন্তানদেরও ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “তিন দিন ধরে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি। বৃষ্টি হলেও আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তাতে অংশ নেয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার আইনগত প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন বলেন, “আট মাস আগেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন সে আমার ঘরে থাকার কোনো অধিকার রাখে না।”