
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুম এলেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় হোগলা (স্থানীয়ভাবে হোগল)। এ উদ্ভিদ চাষ করার প্রয়োজন হয় না। নদীর চর, খাল-বিল ও জলাভূমিতে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠে এটি। বর্ষাকালে হোগলা সংগ্রহ করে অনেক কৃষক ও চরাঞ্চলের বাসিন্দা বাড়তি আয় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হোগলার লম্বা ও মজবুত পাতা শুকিয়ে চাটাই, মাদুর, ঝুড়িসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করা হয়। এসব পণ্যের চাহিদা গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরেও রয়েছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই উদ্ভিদ অনেক পরিবারের জন্য মৌসুমি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।
শুধু পাতাই নয়, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে হোগলার ফুল থেকেও উৎপন্ন হয় এক ধরনের হলুদ রঙের পরাগ, যা স্থানীয়ভাবে ‘হোগল গুঁড়া’ নামে পরিচিত। একসময় এই পরাগ দিয়ে পায়েস, পিঠা, হালুয়া ও বরফির মতো নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করা হতো। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই খাবারের প্রচলন বর্তমানে কমে গেলেও গ্রামীণ জনপদে এখনো এর ঐতিহ্য টিকে আছে।
কৃষকদের মতে, হোগলা চাষে কোনো খরচ নেই। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছ সংগ্রহ করেই তারা ব্যবহার বা বিক্রি করেন। পাশাপাশি নদীর নতুন চরাঞ্চলে মাটি ধরে রাখা এবং ভূমিক্ষয় রোধেও হোগলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, হোগলা থেকে তৈরি হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ, কারিগরদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক বিপণনের ব্যবস্থা করা গেলে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি আরও লাভজনক আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা হোগলার ফুলের পরাগ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবারের সংস্কৃতিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।