
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম থাকায় দিন-রাত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার গ্রাহককে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রায়পুর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রায়পুর উপজেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, ক্ষুদ্র শিল্প ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এছাড়া পৌর শহরের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
রায়পুর জোনাল অফিসের তথ্যমতে, রামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে পানপাড়া, রায়পুর পূর্বলাচ ও রাখালিয়া ৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু রামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় অতিরিক্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে দ্রুত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ দিয়ে লোডশেডিং কমানোর দাবি জানানো হয়।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”
রায়পুর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”
এদিকে রায়পুর জোনাল অফিস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে গ্রাহকদের অসন্তোষ বাড়ছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই রায়পুর উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।