
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মা ও তিন মেয়ের আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতি, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল আদায়, রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কের পৌরসভা অংশের সংস্কার, কিশোর গ্যাং দমন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় রায়পুরে সংঘটিত মা ও তিন মেয়ের হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি। এছাড়া বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ, রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কের পৌরসভা অংশের দ্রুত সংস্কার, উপজেলার দুটি সিএনজি স্টেশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে বিভিন্ন নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ময়লার ভাগাড় অপসারণ, স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং পুরো পৌর এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া ভাড়াটিয়াদের বায়োডাটা সংগ্রহ, আলতাফ মাস্টার ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাজু মোল্লার ঘাটকে সুসজ্জিত করার বিষয়েও সভায় গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মামুনুর রশীদ পলাশ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হুদা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল কাদের বাবলু, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।