
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১৫ বছর বয়সী ছেলে জিহাদকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা মো. সবুজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরের মাথার দুটি স্থানে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হলে চিকিৎসক মোট ১৫টি সেলাই দেন। বর্তমানে সে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরচর এলাকার ব্যাপারী বাড়ির দোকানের দক্ষিণ পাশে স্কুলমাঠ ও দোকানসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
জিহাদ জানায়, তার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এখন তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সে। জিহাদের দাবি, তার বাবা প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই তাকে মারধর করেন। এর আগেও গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত এবং দা দিয়ে হাতে কোপ দিয়ে জখম করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে মাঠে খেলাধুলা শেষে ফেরার পর কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে জানায় সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিহাদ মাঠে খেলাধুলা করার সময় তার বাবা সবুজ সেখানে গিয়ে প্রথমে তার শার্টের কলার ধরে গালে থাপ্পড় মারেন। পরে দোকানের পাশে নিয়ে পড়ে থাকা ইট দিয়ে মাথার তালুতে দুটি আঘাত করেন। এতে তার মাথার দুটি স্থানে ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
জিহাদের চিৎকার শুনে তার চাচা মারুফ হোসেন ও সাজ্জাদুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাঁদেরও কিল-ঘুষি মেরে জখম করার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি দোকানের চালের ওপর ইট নিক্ষেপ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে বাধা দিলে জিহাদসহ অন্যদের আবারও মারধর এবং হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় জিহাদকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
জিহাদের দাদা গনি মিয়া বলেন, “আমার সামনেই আমার নাতিকে ইট দিয়ে এমনভাবে মারধর করেছে। আমি ভয়ে তার কাছে যেতে পারিনি। কারণ, আমার ধারণা ছিল, আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করবে।”
অভিযুক্ত সবুজের ছোট ভাই মোঃ সাজ্জাদ বলেন, “আমার বড় ভাই মাঝে মাঝে আমার ভাতিজাকে মারধর করেন। তিনি একটু উগ্র মেজাজের। এর আগেও তিনি আমাদের দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছেন।”
অভিযুক্ত মো. সবুজ বলেন, “আমার ছেলে আমার অবাধ্য। সে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হওয়ায় আমি তাকে শাসন করেছি।”
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান।”