
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর–হায়দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে চরম অনিয়ম, ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রায়পুরের সাধারণ মানুষ। ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারিতায় শিক্ষার্থী, পথচারী, বৃদ্ধ ও শিশুসহ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ রায়পুর–হায়দরগঞ্জ সড়কের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়ক কাদায় কর্দমাক্ত হয়ে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নাভিশ্বাস উঠছে চলাচলকারীদের।
সড়কটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সড়কের দুই পাশের দোকানপাট, বসতঘর ও গাছপালায় ধুলার পুরু আস্তরণ জমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মোটরসাইকেল আরোহী, পথচারী ও স্কুলগামী শিশুরা। ধুলার কারণে সড়কের পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালির কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, কাশি ও নানা ধরনের শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ বাড়ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে পলিথিন দিয়ে ঘরের সামনের অংশ ঢেকে রেখেছেন। তবুও ধুলা ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ধুলায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় এ পর্যন্ত একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার রুহুল আমিন ইচ্ছেমতো ধীরগতিতে কাজ করছেন এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন। ফলে সড়কে ধুলা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার রুহুল আমিন বলেন, ধুলা কমানোর জন্য নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে। সামনে দুর্ভোগ কিছুটা কমে যাবে।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও তিনি জানান, ধুলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠিকাদারকে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ করে স্থায়ী সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।