জালে ধরা পড়লো বিরল প্রজাতির সাদা ক্যাটফিশ

যুক্তরাষ্ট্রের সিনিক সিটি ফিশিং চার্টার্স থেকে রিচার্ড সিমসের নেতৃত্বাধীন শিকারি দলের সঙ্গে মাছ ধরতে বেরিয়েছিলেন ১৫ বছর বয়সী এডওয়ার্ডস তারুমিয়ানজ। দলটিতে অনেক অভিজ্ঞ এবং দক্ষ মৎস্য শিকারি থাকলেও কিশোর এডওয়ার্ডসের জালেই ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির সাদা ক্যাটফিশ।

টেনেসি ওয়াইল্ডলাইফ রিসোর্সেস এজেন্সির (টিডব্লিউআরএ) বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন মৎস্য শিকারি দলটি মাছ শিকারের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। সেখানেই এ চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে।

অত্যন্ত বিরল সাদা ক্যাটফিশটি মূলত ইকটালুরাস ফুর্কাটাস প্রজাতির অন্তর্গত। সাধারণভাবে মাছটি নীল ক্যাটফিশ নামে বেশি পরিচিত। সাধারণত এটি নীলাভ-ধূসর রঙের হলেও এডওয়ার্ডসের ধরা মাছটি ছিল সাদা বর্ণের, সেই সঙ্গে পাখনায় খানিকটা গোলাপি আভাও ছিল।

নিউজউইকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মাছ ধরার দলটির নেতা রিচার্ড সিমস বলেন, “অধিকাংশ মৎস্য শিকারি সারাজীবন মাছ ধরেও এ মাছটির দেখা পায় না। আমার বয়স ৬৭ বছর। বছরের পর বছর আমি হাজার হাজার ক্যাটফিশ ধরেছি। বিরল প্রজাতির এ সাদা ক্যাটফিশটি আমি এবারই প্রথম দেখছি।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তার কাছে এতটাই অবিশ্বাস্য যে মাছটির ছবি তুলে না রাখলে অনেকের পক্ষেই বিষয়টি বিশ্বাস করা কঠিন হতো।

রিচার্ড সিমসের ভাষ্যমতে, মাছটি লিউসিস্টিক ক্যাটফিশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটি এমন একটি অবস্থা যা বিভিন্ন প্রাণীকে প্রভাবিত করে এবং তাদের গায়ের সামান্য ফ্যাকাশে বা অনুজ্জ্বল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। তবে মাছটি অ্যালবিনোও হতে পারে। অ্যালবিনিজম মূলত জেনেটিক অবস্থা, যা মেলানিনের অনুপস্থিতি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

তবে মাছটি যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, সেটি শিকার করার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে বিশেষ কৃতিত্বের দাবি রাখে। বিরল প্রজাতির সাদা ক্যাটফিশটি শিকারের পর আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইন্টারনেটে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এডওয়ার্ডসের প্রশংসা করেছেন। এক ব্যবহারকারী বলেন, “সে (এডওয়ার্ডস) নিজের আজীবন মৎস্য শিকারি হয়ে থাকবে এবং বাকি জীবনের জন্য তার ভাণ্ডারে দুর্দান্ত এক গল্প যোগ হলো। তাকে অভিনন্দন!!”

আরেকজন বলেন, “কিশোরটির জন্য কী বিশেষ এক স্মৃতি! দিনটির কথা সে নিশ্চিতভাবে ভুলবে না! দ্য ওয়ান দ্যাট গট অ্যাওয়ে গল্পের মতো এমন বিরল প্রজাতির একটি মাছ ধরেছে বলে আমি খুবই খুশি। কারণ কেউ এটি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবে না।”