গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা আর চিৎকারে কেঁপে ওঠে রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ উত্তর বাজার। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অন্তত ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাত আড়াইটার দিকে মাছ বাজার গলিতে বিশ্বনাথ ডাক্তারের দোকানের উত্তর পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।
চোখের সামনে নিজেদের দোকান পুড়তে দেখে অসহায় হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মুদি দোকান, তেল মিল, ইলেকট্রনিকস, খেলনা ও কার্পেটের দোকানসহ আশপাশের একাধিক প্রতিষ্ঠানে।
আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে— মফিজ বেপারী মুদি দোকান, আলী ভ্যারাইটিজ, আল আমিন ওয়েল মিল, দেলোয়ার স্টোর (চায়ের দোকান), নাহিদ স্টোর, ফয়সাল ইলেকট্রনিকস, তারেক রেক্সিন হাউস ও মাতাব্বর এন্টারপ্রাইজ। এছাড়া মাসুদ স্টোর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সিয়াম হোসেন বলেন, “আমরা তখন বাংলা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে রায়পুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে।”
খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তরুণদের সহযোগিতাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, “প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।”
ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর না মিললেও ব্যবসায়ীদের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। অনেকেই কাঁদতে কাঁদতে জানান, এই দোকানই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।
স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছে এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।