লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে কামাল হোসেন (৩৭) নামে এক অটোচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রদানিয়া বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত কামাল হোসেন ওই এলাকার দিনমজুর আবু সাঈদ প্রদানিয়ার দ্বিতীয় ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার স্ত্রী রোকসানা গত ১৫ দিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাদের সাত মাস বয়সী এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।
নিহতের বাবা আবু সাঈদ জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে কামাল রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রোববার সকাল প্রায় ১১টার দিকে তার বড় ভাবি ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে টিনের ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকিয়ে দেখেন, জানালার গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচানো অবস্থায় কামালের মরদেহ ঝুলছে। পরে তিনি চিৎকার করলে স্বজনরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হাসেম বলেন, “কামালের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কারও সঙ্গে তার শত্রুতার কথাও জানা নেই। তবে সে মাঝে মাঝে মাদক সেবন করত। গত বছর কুমিল্লার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে তিন মাস চিকিৎসাও নিয়েছিল। ছোট একটি ঘরের জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেলেও তার হাঁটু ভাঙা অবস্থায় ছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
রায়পুরের হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহীম জানান, দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।