লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পৈতৃক সুপারি বাগান দেখাশোনা করতে গিয়ে দুই কলেজশিক্ষার্থী ভাই-বোন এবং তাঁদের মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তানভীর হোসাইন (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া গ্রামের ফতেহ আলী পাটওয়ারী বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি সুপারি বাগানে এবং পরবর্তী সময়ে পাশের এক উঠান ও চলাচলের পথে।
আহত তানভীর হোসাইন উত্তরা টাউন কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বোন উম্মে হাফসা একই কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
এ ঘটনায় তানভীর রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধিসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
এজাহার ও ভুক্তভোগীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, পড়াশোনার খরচ চালানোর উদ্দেশ্যে তাঁদের বাবা প্রায় দুই বছর আগে নিজের মালিকানাধীন ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির সুপারি বাগানটি মৌখিকভাবে সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার বিকেলে তানভীর, তাঁর বোন ও মা বাগানটি পরিদর্শনে গেলে বিবাদীরা তাঁদের উপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালানো হয়।
পরে তারা আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি বাড়ির উঠান ও চলাচলের পথে গেলে সেখানে আবারও লোহার রড, জিআই পাইপ ও কাঠের লাঠি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তানভীরের মাথায় আঘাত করলে ডান চোখের ওপরের অংশ ফেটে যায়। এ ছাড়া তাঁকে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং সঙ্গে থাকা নগদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
একই সময়ে তানভীরের বোন ও মাকেও মারধর, শ্লীলতাহানি এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়। পাশাপাশি বোনের গলার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ও মায়ের গলার প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এবং তানভীরের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী পক্ষের সোহেল মেম্বার বলেন, “তারা খুবই উশৃঙ্খল। প্রায়ই বাড়িতে এসে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়ায়। আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে মধ্যস্থতা করতে গেলে তারা উল্টো আমার দিকেও তেড়ে আসে।”
খবর পেয়ে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদেরকে দেখতে যান এবং সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “এ সংক্রান্ত একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”