• রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রায়পুরে তেলবাহী গাড়ি এলেও সংকট কাটেনি—দীর্ঘ লাইনে চালকরা, উচ্চ দামে বিক্রির অভিযোগ ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে, সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বড় ব্যবধান রায়পুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি কলেজে ফিরলেন ’৯৩ ব্যাচ, পুরনো দিনের গল্পে জমলো ঈদ পুনর্মিলনী রায়পুরে জ্বালানি তেল সংকটে ভিড়ম্বনায় জনজীবন, যান্ত্রিক ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ এসএসসি ১৯৯০ (বন্ড ৯০) ঈদ পুনর্মিলনী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রায়পুরে গভীর রাতে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, জব্দ ৬ টুকরো গাছের গুঁড়ি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে রায়পুরে ৩০০ অসহায় মানুষের মাঝে ৬ লাখ টাকার সহায়তা বিতরণ রায়পুরে কথিত মাদক সম্রাট ‘মাইকেল’সহ ২ জন পুনরায় গ্রেপ্তার, ৭১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার পৌর ১নং ওয়ার্ডে যুব সংগঠনের উদ্যোগে রঙিন হলো নদীর পাড়ের মসজিদ

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে, সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বড় ব্যবধান

medianewsbd / ৫১ Time View
Update : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাওয়ায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ঈদের সাত দিনের ছুটিতে (১৭-২৩ মার্চ) সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর প্রাথমিক হিসাবে, একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারি হিসাবে অনেক দুর্ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও বিআরটিএর তালিকায় নেই। এমনকি ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার সরকারি প্রতিবেদনে কুমিল্লার কোনো দুর্ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ঈদের সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্তই ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়— ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ। ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলমান থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। আর ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য প্রাথমিক। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি-র মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। কারণ, এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এই প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category