লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইচা এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ তুলে রহমত উল্লাহ বাবলুর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুল বাড়ির নাম ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত নোটিশটি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রায়পুরে দায়ের করা মিস মামলা নং ৫৫১/২০২৫-এর। নোটিশটির তারিখ ২৪ মার্চ ২০২৬। এতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলমান থাকায় পূর্বে দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ শান্তিভঙ্গজনক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবে না।
নোটিশ অনুযায়ী, মামলার ১ম পক্ষ মো. বেলায়েত হোসেন। ২য় পক্ষ হিসেবে রয়েছেন খোরশেদ আলম, রহমত উল্লাহ বাবলু, কাজল ও আফরিন সুলতানা।
নোটিশে বর্ণিত জমির তফসিল অনুযায়ী, সম্পত্তিটি রায়পুর থানার সাইচা এলাকার আরএস ৬৭ নম্বর খতিয়ানের হাল ১২২৮ নম্বর দাগভুক্ত। ওই দাগের মোট ১৬ শতাংশ জমির মধ্যে ১২ শতাংশকে নালিশি সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবলুর দাবি, দীর্ঘদিন আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ থাকায় তিনি বসতঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করার পর তিনি আইন মেনে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন। তার দাবি, এ অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন মধ্যরাতে দলবল নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর করতে আসে এবং তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
বাবলুর ভাষ্য, তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পালানোর সময় রাতের অন্ধকারে নির্মাণাধীন ভবনের অসম্পূর্ণ কাজের রডে লেগে হামলাকারীদের কয়েকজনও আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
বাবলুর পক্ষের আরও দাবি, আদালতের নোটিশে পূর্বের স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তাই আদালতের নোটিশের বিষয়টি যাচাই না করে তাকে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
তাদের আরও দাবি, প্রকাশিত সংবাদে বাড়ির নাম, মামলা নম্বর, আদালতের পরিচয় ও জমির তফসিলের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে পড়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এবং বেলায়েত হোসেনের পাঠানো লোকজন শান্তিভঙ্গ করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে।
স্থানীয়দের মতে, আদালতের আদেশ বা নোটিশ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভুল তথ্যের কারণে একজনের সামাজিকভাবে ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি আদালতের আদেশ সম্পর্কেও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।