লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে দিন দিন বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। বাজারের অলিগলি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক মহাসড়ক—সবখানেই অবাধে চলাচল করছে এসব যানবাহন। নির্দিষ্ট স্টেশন না থাকায় যত্রতত্র অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা, রাস্তার ওপর পার্কিং এবং ভ্যানে পণ্য বিক্রির কারণে যান চলাচলে তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিস্তার বাড়তে থাকে। বর্তমানে শহর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করলেও পৌর এলাকায় দৈনিক কতটি অটোরিকশা চলাচল করে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। স্থানীয়দের ধারণা, এ সংখ্যা ২০ হাজারের কম নয়।
অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রেও কার্যকর নীতিমালা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রায়পুরের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজে তৈরি হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ব্যয়ে এসব অটোরিকশা তৈরি করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এসব যান তৈরি ও চলাচল করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ নিজস্ব অটোরিকশা কিনে চালাচ্ছেন, আবার কেউ দৈনিক প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশা নিয়ে আয় করছেন। আশপাশের গ্রাম থেকে শহরে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অটোরিকশা চালান, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পণ্য এনে বিক্রি করছেন হকাররা।
তবে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালক চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলেন, এক হাতে গাড়ি চালান কিংবা অসতর্কভাবে পা তুলে গাড়ি চালান। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর যত্রতত্র অটোরিকশা পার্কিং করা হচ্ছে। আবার ভ্যানে পণ্য বিক্রির কারণে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এসব কারণে যানজটের পাশাপাশি ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। চালকদের একটি বড় অংশের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাপক বিস্তারে ঐতিহ্যবাহী পায়েচালিত রিকশার চলাচলও কমে গেছে। স্থানীয়দের মতে, অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্টেশন না থাকায় চালকেরা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। ফলে দিনের বেশির ভাগ সময় রায়পুর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট লেগে থাকে।
এদিকে, রায়পুর পৌর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, পৌর এলাকায় কতসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, নির্দিষ্ট স্টেশন স্থাপন এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া সড়কে অটোরিকশা দাঁড় করানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, অটোরিকশা পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, অটোরিকশার মালিক ও স্থানীয়দের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। এ বিষয়ে স্থানীয় জনমতের ভিত্তিতে এবং সর্বসাধারণের সম্মতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।