শিরোনাম:
রায়পুরে পাউবোর জায়গার ১২টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ রায়পুরে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ১৩ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙন আতঙ্কে মেঘনাপাড়ের মানুষ রায়পুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এতিম-দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও দাম কম, হতাশ চাষিরা রায়পুরে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে রায়পুরে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগ, আহত ২; পুলিশ হেফাজতে রাজু রায়পুরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন রায়পুরে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া রায়পুরকে মডেল উপজেলা করার প্রত্যয় এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! রায়পুরে মেঘনায় থামছে না মা ইলিশ শিকার

রায়পুরে পাউবোর জায়গার ১২টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ

medianewsbd / ১২৩ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় থাকা ১০ থেকে ১২টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ওরফে কিরনের বিরুদ্ধে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযুক্ত মোরশেদ আলম জেলার কমলনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার দাবি, গাছগুলো প্রায় ৩০ বছর আগে তার বাবা লাগিয়েছিলেন। তবে সরকারি জায়গার গাছ বিক্রির বিষয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, সরকারি আইন অনুযায়ী গাছগুলো বিক্রি করা ঠিক হয়নি।

উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এনায়েত উল্লাহ মাস্টারের পোলের গোড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গাছগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ছিল। সংশ্লিষ্ট নথিতেও ওই জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপরও সেখানকার ১০ থেকে ১২টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নথি অনুযায়ী, রায়পুর উপজেলার বগা-রাখালিয়া সংশ্লিষ্ট মৌজায় ১৯৯০ নম্বর সাবেক দাগে বোর্ডের ০.৩৪ একর জমি রয়েছে। নথিতে জমির শ্রেণি হিসেবে ০.২০ একর ভিটি, ০.১০ একর বাগান ও ০.০৪ একর নাল উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ওই জমিতে থাকা গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। সরকারি জায়গার মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গাছ কিনে নেওয়া মঞ্জু বলেন, ‘মোরশেদ আলম নিজের গাছ বলে আমার কাছে বিক্রি করেছেন। আমি যদি জানতাম, এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার গাছ, তাহলে কখনোই কিনতাম না।’

গাছ বিক্রির বিষয়ে মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ওরফে কিরন বলেন, ‘সরকারি আইন অনুযায়ী আমার গাছ বিক্রি করা ঠিক হয়নি। এই জায়গায় আমাদের বাড়ির সামনে। রেন্ট্রি গাছগুলো আমার বাবা প্রায় ৩০ বছর আগে লাগিয়েছিলেন। তাই এখন আমরা পারিবারিকভাবে গাছগুলো বিক্রি করে দিচ্ছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা যখন তারা চাইবে, আমরা ছেড়ে দেব।’

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে গাছ কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে গাছ কাটার জন্য কেউ কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় থাকা গাছ ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোরশেদ আলম গাছগুলো তার বাবার লাগানো বলে দাবি করেছেন। তবে জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে নথিভুক্ত থাকায় গাছগুলোর মালিকানা এবং সেগুলো কাটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি জায়গায় থাকা গাছ কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category