আল-মাজেদ:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সরেজমিন তদন্তের সঠিক প্রতিবেদন তৈরি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড)কে টাকা দিতে হবে-এমন কথা বলে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চরবংশী ইউনিয়নের তহশিলদার আব্দুল সাত্তারের বিরুদ্ধে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাসে তাঁদের কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাঁদের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রায়পুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মিস মামলা নং ৫৫২/২০২৬-এর বাদী ফরিদা। মামলায় বাদশা গাজীসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। বিরোধটি উপজেলার চরকাছিয়া মৌজার ৪৭৯২ নম্বর খতিয়ানের ৫২৯৭ নম্বর দাগের ১ দশমিক ৮৪ একর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে।
বাদীপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির ওপর তাঁদের মালিকানা রয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা গাজী বিভিন্নভাবে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাদশা গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের দাবি, জমি নিয়ে এর আগে দেওয়ানি আদালতে ৭০/২০১০ নম্বর মামলা হয়েছিল। ওই মামলার রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিরোধপূর্ণ জমিতে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বিবাদীপক্ষের জমি ভোগদখলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে এ প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বাদীপক্ষ আদালতে নারাজির আবেদন করেছে।
তাঁদের দাবি, তদন্তে জমির প্রকৃত অবস্থা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ কারণে তাঁরা প্রতিবেদন বাতিল করে নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে পুনরায় তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আবদুর রশিদ বলেন, তহশিলদার আব্দুল সাত্তারকে তাঁরা বলেছিলেন, ‘যা সত্য, সেটাই আপনি প্রতিবেদনে তুলে ধরবেন।’ এরপর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি এবং এসিল্যান্ডকে টাকা দিতে হবে-এমন কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও সঠিক প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।
তবে এসিল্যান্ডকে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ওই অর্থের কোনো অংশ বাস্তবে এসিল্যান্ডকে দেওয়া হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড বদলি হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তহশিলদার আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, বিবাদীপক্ষ জমিটি দখলে রেখেছে। সে কারণে আমি তাদের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছি।’ টাকা নেওয়ার কথা সঠিক নয়।