শিরোনাম:
রায়পুরে অনাবৃষ্টিতে আমন ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক, সেচের বাড়তি খরচে বিপাকে ১৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ধীরগতি, ঠিকাদারের গাফিলতিতে বাড়ছে জনদুর্ভো রায়পুরে পাউবোর জায়গার ১২টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ রায়পুরে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ১৩ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙন আতঙ্কে মেঘনাপাড়ের মানুষ রায়পুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এতিম-দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ রায়পুরে পানের উৎপাদন বাড়লেও দাম কম, হতাশ চাষিরা রায়পুরে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে রায়পুরে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগ, আহত ২; পুলিশ হেফাজতে রাজু রায়পুরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন রায়পুরে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া

রায়পুরে অনাবৃষ্টিতে আমন ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক, সেচের বাড়তি খরচে বিপাকে

medianewsbd / ০ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
Screenshot

কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ চলছে। প্রকৃতির নিয়মে এ সময়ে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এখনো শীতের তেমন দেখা নেই। অন্যদিকে দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ধানের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। জমিতে পানির অভাবে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মাঠে এখন আমন ধানের থোড় বের হওয়ার সময়। এ সময়ে ধানের শীষ বের হওয়া ও দানা পুষ্ট হওয়ার জন্য জমিতে পর্যাপ্ত পানি বা রস থাকা জরুরি। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা না থাকায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক কৃষক নিজেদের অর্থায়নে স্যালো মেশিন বসিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ খরচের কথা চিন্তা করে সেচ দিতে পারছেন না। অপেক্ষা করছেন এক পশলা বৃষ্টির।

কৃষকদের ভাষ্য, কার্তিক মাসে অনাবৃষ্টি আমন ধানের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। প্রচলিত খনার বচনেও রয়েছে, ‘কার্তিক মাসে খরা, ধান হয় ছরা।’ অর্থাৎ এ সময়ে পানির অভাবে ধানের শীষ ঠিকমতো পুষ্ট না হলে চিটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ফলন কমে যেতে পারে।

এদিকে আমন ধানের পাশাপাশি বৃষ্টির অভাবে আসন্ন রবি মৌসুমের শীতকালীন ফসলের চাষাবাদ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সময়মতো জমিতে আর্দ্রতা না থাকলে রবি ফসলের বীজ বপন ও চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক লিটন জানান, এভাবে খরা চলতে থাকলে তাঁদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধানের জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।

আরেক কৃষক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আল্লাহ এবার আমাদের কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছেন। এই সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা, কিন্তু বৃষ্টি নেই। এভাবে চলতে থাকলে এবার ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়েই চিন্তায় আছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে কৃষিজমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ মুহূর্তে জমিতে সেচের প্রয়োজন। খেতে পানি না দিলে ফলন হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেচের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অতি দ্রুত সেচ স্কিমগুলো চালু হবে এবং জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) লক্ষ্মীপুর শাখার সহকারী পরিচালক জুয়েল হোসেন জানান, সাধারণত বরো মৌসুমে সেচ স্কিমগুলো চালু করা হয়। তারপরও যেখানে প্রয়োজন, সেখানে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাম্পগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আওতাধীন যেসব স্কিম রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় এলাকায় সেচ চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে কিংবা সেচের ব্যবস্থা করতে না পারলে আমন ধানের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের থোড় থাকলেও কৃষকের মনে এখন শুধুই দুশ্চিন্তা—শেষ পর্যন্ত গোলায় ধান উঠবে তো?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category