তানজিল মাহমুদ:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে রাজু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আলমগীর ও মুন্না নামে দুজন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজুকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে রায়পুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজু মাদক সেবন করে এলাকায় বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। মাদক সেবনে বাধা দিলে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মাদক সেবন ও এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও মুন্নাকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে তাঁরা আহত হন। পরে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রাজুকে একটি ঘরে আটকে রেখে ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে রায়পুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, এর আগেও রাজুকে দুই থেকে তিনবার মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়েছিল। তখন তিনি ভবিষ্যতে মাদক সেবন করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও মাদক সেবন শুরু করেন এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজু এর আগে একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজনকে মারধর করে মাথায় আঘাত করার অভিযোগও করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম তাঁকে একাধিকবার মাদক সেবন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ সময়ও রাজু তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজুকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম, রায়পুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী, রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সালাউদ্দিন তুষারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে রায়পুর থানা-পুলিশ জানায়, রাজুকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর রায়পুর থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পৌরসভা আইনের ৩৪ ধারার ৬ উপধারায় চালান দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকাবাসী এলাকায় মাদক সেবন ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।