লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এ বছর পানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। গত বছর যে পান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এ বছর তা মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে উৎপাদন বাড়লেও প্রত্যাশিত লাভ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন পানচাষিরা।
রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন এ বাজারে প্রায় ২০ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। মধ্য রাত থেকে বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পান নিয়ে বাজারে আসেন। ভোর থেকে শুরু হয় বেচাকেনা, চলে সকালজুড়ে। এ বাজারের পান স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাতিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
পানচাষি সাহেদ মাঝী আক্ষেপ করে বলেন, “এত পান নিয়ে আসছি, বিক্রি করে বলদের পয়সাও হবে না।” তাঁর কথায়, উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ব্যবধান নিয়ে চাষিদের হতাশার চিত্র ফুটে ওঠে।
চাষিরা জানান, এ বছর পানের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ কম থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
পানচাষি বারেক উদ্দিন বলেন, শ্যামবাজার ও চাঁদপুরের মতো রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারেও জমজমাট পানের বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এ বাজারে পান কিনতে আসেন।
স্থানীয়ভাবে রায়পুরের নতুন বাজার পানহাটা, হায়দরগঞ্জ বাজার ও ক্যাম্পেরহাট পান বেচাকেনার পরিচিত কেন্দ্র। এসব বাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পানচাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এখানকার পান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
তবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারের বেচাকেনা জমজমাট থাকার পরও পানের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করা গেলে পানচাষিরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।