রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার বিকেলে রায়পুর বাজারের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম (৭০)। তিনি মৃত ছিদ্দিক উল্যা ও মৃত মাহমুদা খাতুনের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, একই বাড়ির লোকজন—আলমগীর হোসেন (৪০), জাকির হোসেন (৩০), রুলামিন (৭০), রিনা বেগম (২৫), রোকেয়া বেগম (২৭) ও শাহানাজ (২৬)—দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন। তারা প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় দায়ের হওয়া জি.আর ২৯৭/২০২৫ মামলায় এক আসামি গ্রেপ্তার হয়ে ২২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি অভিযুক্তরা বসতবাড়িতে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও পথচলায় বাধা দেন। বাধা দিতে গেলে তারা মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। ভুক্তভোগী পরিবার চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী আবুল কাশেম আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা তাদের বসতবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রাণনাশের ভয়ে তিনি বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানান।
আবুল কাশেমের দাবি, যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশ, মারধর, এমনকি বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন। বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।