লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবাদুল্লাহ গাজীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে খাসেরহাট বাজার এলাকায় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এবাদুল্লাহ গাজী, খোরশেদ আলম ও জাহেদুল ইসলামসহ চারজন আহত হন। হামলায় এবাদুল্লাহ গাজীর হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয় এবং কিশোর জাহেদুল ইসলামের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় দাস জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। এবাদুল্লাহ গাজীকে ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) এবং জাহিদকে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে খোরশেদ আলমকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত জনতা হামলাকারী সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন (৩২)-কে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয়। আটক সুজন ভোলা সদর থানার শ্যামপুর বেদুয়া এলাকার মৃত রফিক মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সাইফুল ইসলাম সুজন জানান, সে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে টুপি বিক্রি করে। সেই সুবাদে আসিফ নামে এক বাদাম বিক্রেতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আসিফ তাকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদে ৫ হাজার টাকা এবং দুটি ককটেল ও ছুরি দিয়ে চরবংশী খাসেরহাট জামে মসজিদের এলাকায় পাঠায়। দীর্ঘক্ষণ মসজিদের সামনে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে চোর সন্দেহে ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলে এবং মারধর শুরু করে। মারধরের হাত থেকে বাঁচতে ও আত্মরক্ষার জন্য সে পকেট থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এলোপাতাড়ি ছুরি চালায়। সে কাউকে নির্দিষ্ট করে চিনত না বলেও দাবি করে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল পরিকল্পনাকারী আসিফসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “ছুরিকাঘাত ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সুজন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসিফসহ অন্যান্যদের পরিচয় ও মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”