‘প্রশাসক আর নির্বাচিত মেয়র এক নন’—এমন মন্তব্য করে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মেয়র গিয়াস উদ্দীন রুবেল ভাট। তিন বছরের দায়িত্ব পালনকালে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে রেখে এসেছেন দাবি করে তিনি এসব প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার পর রায়পুর পৌরসভায় নতুন করে কতটি উন্নয়ন প্রকল্প যুক্ত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত রায়পুর গড়ার লক্ষ্যে তিনি বেশ কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে রেখেছেন বলেও দাবি করেন।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন, ৩০ কোটি টাকার পৌর মার্কেট, ১৫ কোটি টাকার পৌর শিশু পার্ক এবং ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের ২৭টি বাড়ির অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করানো হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তা, ড্রেনেজ ও স্ট্রিট লাইটের উন্নয়নকাজও তাঁর সময়ের পরিকল্পনার অংশ ছিল।
এসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, রাস্তা ও ড্রেনেজের চলমান কাজ এগিয়ে নিতে বর্তমান প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে পৌরসভা ও উপজেলাবাসী ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ২৭টি বাড়ির উন্নয়ন প্রকল্পও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে আটকে রয়েছে।
তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও রয়েছে রুবেল ভাটের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ৪০২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটি ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় পদে থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে আর ফেরেননি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ১৮ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে দেশের অন্যান্য পৌরসভার মেয়রদের সঙ্গে তাঁকেও অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, দেশত্যাগ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে মিশ্র আলোচনা রয়েছে। কেউ তাঁর সময়ের কিছু উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর বিদেশে অবস্থান এবং বিদেশ থেকে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে সাবেক মেয়র তাঁর বক্তব্যে রায়পুরের সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল-মত ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পৌরসভার উন্নয়নকাজের স্বচ্ছ হিসাব দাবি করতে হবে। অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, বরাদ্দ, ব্যয়, বাস্তব অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
তিনি বলেন, তাঁরা কারও বিরোধিতা করতে চান না, রায়পুরের উন্নয়ন চান। তাঁর রেখে যাওয়া প্রকল্পগুলো যেন অবহেলা, অদক্ষতা কিংবা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে থমকে না যায়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিদেশে অবস্থানরত সাবেক এই মেয়রের উন্নয়নবিষয়ক বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর প্রকৃত অবস্থা, বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা এবং রায়পুর পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।