লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের মাঝি বাড়ির ফারুক মাঝি ও তার মেয়ে ফাতেমা আক্তার লিপির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, অলংকার নেওয়া অভিযোগে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার (২ আগস্ট) উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝি বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারুক মাঝি।
তিনি বলেন, প্রায় চার বছর আগে তার মেয়ে ফাতেমা আক্তার লিপির সঙ্গে রাখালিয়া কাজী বাড়ির সিরাজ কাজীর ছেলে প্রবাসী ইয়াছিন আরাফাত জুমানের মুঠোফোনে বিয়ে হয়। সে সময় তিন মাসের মধ্যে দেশে ফিরে মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িতে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ইকামাসহ বিভিন্ন অজুহাতে ইয়াছিন বারবার দেশে ফেরা পিছিয়ে দেন।
ফারুক মাঝির দাবি, ইয়াছিনের ইকামা করার জন্য তিনি দেড় লাখ টাকা দেন। কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেও ইয়াছিন দেশে ফেরেননি। পরে ইয়াছিনের বোন জোসনা বেগম তাদের জানান, ইয়াছিন কবে দেশে ফিরবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং চাইলে তারা মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিতে পারেন। পরে ইয়াছিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করলে তিনি একই কথা বলায় পরিবারের সম্মতিতে মেয়ের অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক মাঝি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইয়াছিন আরাফাত জুমান ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, প্রবাসে থাকাকালে ইয়াছিন হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন সময় তাদের মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে বলতেন এবং এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই; বরং ইকামার জন্য দেওয়া দেড় লাখ টাকা এখনও তাদের পাওনা।
ফাতেমা আক্তার লিপি বলেন, “আমার জীবনের চারটি বছর ইয়াছিনের অপেক্ষায় কেটেছে। পরে তাদের সম্মতিতেই আমার অন্যত্র বিয়ে হয়। এখন আমার সংসার ভাঙার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এবং মোবাইল ফোনে বিয়ে করে বিয়ের নামে প্রতারণার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।