ফার্নেস অয়েল ও এলএনজি (LNG) গ্যাসের তীব্র সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (SCADA) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরীর বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১,২৯১.৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১,২০০.৭০ মেগাওয়াট। এতে দিনের শুরুতেই প্রায় ৯১ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। সন্ধ্যায় উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রাউজানের দুটি ইউনিট (মোট ৪২০ মেগাওয়াট), জুলধার ২ ও ৩ নম্বর ইউনিট (২০০ মেগাওয়াট) এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কার্যত উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি চালু রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ি কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট, এনলিমা, জুডিয়াক এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্টও স্বাভাবিক উৎপাদনে নেই।
বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (৬১২ মেগাওয়াট) এবং শিকলবাহা কেন্দ্রের ওপর। ফলে সামান্য চাহিদা বৃদ্ধি পেলেই পুরো জাতীয় গ্রিডে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ বিষয়ে পিডিবির স্কাডা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে দেশে মোট ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আজ খুলনার আরও ৬টি কেন্দ্র বন্ধের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে লোডশেডিং আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।