লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আলম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রায়পুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলম উপজেলার ১০ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটুম (আক্কেল আলী সর্দার বাড়ি) এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ এলাকার আমেনা বেগমের সঙ্গে ২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আলমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় মেয়ের পরিবার স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আমেনা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে আলমকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থানকালে আলমকে ছাড়িয়ে আনতে দুই লাখ টাকা এবং তার কথিত পরিচিত হেনা রহমানের হিসাবে আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া আলমের রেখে যাওয়া কিস্তির ৬০ হাজার টাকা বাদী পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২৬ মে ২০২৬ আলম কাউকে না জানিয়ে কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর ব্যবসা করার কথা বলে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৮ জুন সকাল ৯টার দিকে রায়পুরের চরটুম এলাকায় নিজ বাড়িতে বাদীকে মারধর করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আমেনা বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ১১(গ) ধারায় রায়পুর থানায়/আদালতে মামলা করেন। মামলাটি অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী রায়পুর আদালতে সি.আর মামলা নং-৫৮৪/২০২৬ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
রায়পুর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলার আসামি আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।