• শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
চরবংশীতে ফারুক কবিরাজের উদ্যোগে স্থাপন হচ্ছে ১০০ ডিপ টিউবওয়েল রায়পুরে জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৫ জন আহত খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) সদস্যকে গুলি করে হত্যা লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রায়পুর নতুন বাজারের গরুর হাট নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিকল্প ব্যবস্থার ভাবনা রায়পুরে “মাহিরা এন্টারপ্রাইজ”-এর দোয়া ও অভিষেক অনুষ্ঠিত শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়াল রায়পুর পৌর ১নং ওয়ার্ড যুব সংগঠন রামগঞ্জে ফসলি মাঠ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ধারণা গেসু গ্রেফতারের পর থানায় ‘রাজা মিয়া’র আনাগোনা: মালিককে খুঁজে বেড়ানো বানর ঘিরে চাঞ্চল্য রায়পুরে অটোরিকশাচালক রাজিব হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, বিক্ষোভে ফাঁসির দাবি

লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

medianewsbd / ৪৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো প্রকল্পের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে ২১টি ইউনিয়নের ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও, বাকি ৯টি ইউনিয়নের আরও ৮৪টি কেন্দ্রেও সিসিটিভি স্থাপন করা হয়।

এজন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের মৌখিক নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের করের ১ শতাংশ তহবিল থেকে মোটা অঙ্কের প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ৪ থেকে ৬টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রতিটি প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেখানো হয়। গত জানুয়ারিতে জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল হিসেবে এসব অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক। তবে তিনি বলেন, “এসব হিসাব দিতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।”

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২ থেকে ৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। সে হিসেবে ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় মোট ৩৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কিন্তু পৌরসভাসহ আরও ৮৪টি কেন্দ্রের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ তহবিল থেকে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তার ব্যয় প্রাক্কলিত হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের থেকেই সিসিটিভি থাকা কেন্দ্রেও নতুন বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়নই হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দের সুস্পষ্ট হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলাম ইউএনওর নাম ব্যবহার করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়নগুলো থেকে ৩ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের কাছে বিল জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, তৌহিদুল ইসলাম ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার কথা বলে চেয়ারম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের সচিব গাজ আব্বাস উদ্দিন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে চেয়ারম্যান বা পরিষদের কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না। বিলে স্বাক্ষর না করলে পদ হারানোর ভয়ও দেখানো হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলামের হাতে নগদ ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অন্য ইউনিয়ন থেকেও কমবেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উত্তর হামছাদি, ভবানীগঞ্জ, টুমচর ও উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরাও।

টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন, ইউএনওর তত্ত্বাবধানে তার অফিসের লোকজন দিয়ে আমার ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। এজন্য আমাদের পরিষদের সচিব আবুল বাছের উপজেলা গিয়ে তৌহিদুল ইসলামের হাতে ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন। শুধু আমাদের ইউনিয়ন নয়, অন্য ইউনিয়ন থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “১১৫টি কেন্দ্রের জন্য সরকার বাজেট দিয়েছে। বাকি ৮৪টি কেন্দ্রে বাজেট না থাকায় ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় চেয়ারম্যান ও সচিবরা সিসিটিভি স্থাপন করেছেন। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। ইউএনওর সঙ্গে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন।”

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রকল্প জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া মোবাইল ফোনে বলেন, পুরো প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ইউএনওদের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ বরাদ্দ থেকে অর্থ নেওয়ারও নির্দেশনা ছিল। তবে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category