• বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রায়পুরের কেরোয়ায় জমির জেরে ভাঙচুর,মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির, প্রতিপক্ষের দাবি-“আগে আমাদের ঘর ভাঙা হয়েছে” রায়পুর উপজেলা প্রবাসী প্রাক্তন ছাত্রদলের ১০ নং ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রায়পুরে জমি বিরোধে সংবাদ সম্মেলন: জীবনের নিরাপত্তা চাইলেন বৃদ্ধ আবুল কাশেম বাইসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল সিএনজি যাত্রীর রায়পুরে অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ২৪ হাজার টাকা রায়পুর পৌরসভায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নাগরিকরা রায়পুরে নদীর পাড়ে অনাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধা ছালেহার রায়পুর বাজার বণিক সমিতি-এর উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও শুভেচ্ছা বিনিময় রায়পুরে অটোরিকশা চোর গ্রেফতার ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৩ পুলিশ সদস্য রায়পুরে সেচ্ছাসেবী ও সামাজিক যুব সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা

রায়পুর পৌরসভায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নাগরিকরা

medianewsbd / ৩২ Time View
Update : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা এলাকায় দিন-রাত মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নাগরিকরা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত এ শহরটি কার্যত ‘মশার নগরী’তে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

সন্ধ্যার পর নতুনবাজার, উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় মানুষের ভিড় কমে যায়। স্থানীয়রা জানান, ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণে দোকান, মসজিদ ও বাসাবাড়িতে টিকেই থাকা দায় হয়ে পড়েছে।

নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা শামসুল ইসলাম ও গৃহিণী খুশবু আক্তার বলেন, “মশার যন্ত্রণায় দিন-রাত একাকার। একটু অসাবধান হলেই মশার কামড়ে শরীর ফুলে যাচ্ছে।”

বাসটার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী মাহবুবুল আলম মিন্টু অভিযোগ করেন, “এবার আমাদের এলাকায় কোনো ফগিং কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ফগার মেশিনের শব্দও শোনা যায়নি। মশার উপদ্রব কমার লক্ষণ নেই।”

পীরবাড়ী সংলগ্ন একটি মেসে থাকা কয়েকজন কলেজছাত্র জানান, প্রতিদিন ১৫ টাকার কয়েল পুড়িয়েও স্বস্তি মিলছে না। পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে নিয়মিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, বরাদ্দকৃত ওষুধ যথাযথভাবে স্প্রে করা হয় না। একটি বোতল ৭১৫ টাকায় কেনা হলেও তা কম দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তাদের দাবি, সঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগ করা হলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।

রায়পুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, “মশা নিধনে ওষুধ সঠিক মাত্রায় ব্যবহার না করলে মশা প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। স্প্রের আগে ও পরে মশার ঘনত্ব পরিমাপ জরুরি, যা এখানে হচ্ছে না। শুধু ফগিং নয়, লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এদিকে মধ্যবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এরোসল, ইলেকট্রিক ব্যাট ও লিকুইড ভেপারাইজারের বিক্রি বেড়েছে। তবে নাগরিকদের মতে, এগুলো সাময়িক উপশম দিলেও স্থায়ী সমাধান নয়।

পৌরসভার মশক নিধন বিভাগের কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর রোমানুর রহমান বলেন, বাজেট ব্যয়বহুল হওয়ায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে; এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ মোর্শেদ জানান, কয়েক মাস আগে মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত স্প্রে ও ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম চালু রয়েছে। রমজান উপলক্ষে আপাতত স্প্রে করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ গত কয়েক বছরে বেড়েছে; লক্ষ্মীপুরেও অতীতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মৌসুমী জ্বর বৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এটি সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া, তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে থাকায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

নাগরিকদের দাবি, নিয়মিত ফগিং, লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা, ড্রেন পরিষ্কার এবং ওষুধ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিক পৌর কর্তৃপক্ষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category