• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে অনিয়ম, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রায়পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১ রায়পুরের হায়দারগঞ্জে বাজার ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩ মানববন্ধন-সংবাদ সম্মেলনেও শেষ রক্ষা হয়নি: ফের গ্রেপ্তার একাধিক মাদক মামলার আসামি খোরশেদ রায়পুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা: তিন দিনেও সরেনি ময়লার স্তুপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন জেনারেটরনির্ভর মোবাইল নেটওয়ার্ক, জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নুরুন্নাহার থেকে মাসানু মারমা: মানিকছড়িতে প্রেম, ধর্মান্তর ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক সিসিটিভিতে মিলল সত্য: অপহরণের গুজব, হোটেল থেকে স্বাভাবিকভাবেই বের হন সবুজ রায়পুরে ফুটপাত দখল ও মূল্য তালিকা না থাকায় মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৯ হাজার টাকা রায়পুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন গ্রেফতার, গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে অনিয়ম, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

medianewsbd / ৫ Time View
Update : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ:

লক্ষ্মীপুরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্লাব সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তার টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি দপ্তরিদের সম্মানির টাকাও কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহে সরেজমিনে রায়পুর ও সদর উপজেলার অন্তত ১০টি কেন্দ্রে ঘুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করে শিশুদের আবৃত্তি, সংগীত শিক্ষা, কারাতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ২২টি এবং রায়পুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মোট ১১টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থী প্রতি ৩০ টাকা হিসেবে মোট ৯০০ টাকা নাস্তার জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭৫০ টাকা শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে মাত্র ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার নাস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

এছাড়া কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে বা অসুস্থতার কারণে ক্লাস বন্ধ থাকলেও সেদিনের নাস্তার টাকা পরবর্তী ক্লাসে সমন্বয় করা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্লাবগুলোর দেখভালের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে দপ্তরিদের মাসিক ৫০০ টাকা সম্মানি বরাদ্দ থাকলেও তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকা।

রায়পুরের এলএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। আরও দুইজন বাইরে ছিল। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ১০ টাকার এক প্যাকেট বিস্কুট, ১০ টাকার একটি কেক এবং ১০ টাকার এক প্যাকেট নুডলস দেওয়া হয়, যার মোট মূল্য ৩০ টাকা।

রায়পুর সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সংগীত শিক্ষক হোসনে আরা বেগম বলেন, আমাদের কেন্দ্রে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। ২০ জনের কম হলে ২৫ টাকার নাস্তা দেওয়া হয়, বেশি হলে ২০ টাকার।

রায়পুর এলএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কান্তি মজুমদার বলেন, বছরে একবার এসে কোনোভাবে নাস্তা করিয়ে শিক্ষক চলে যেতেন। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন চরআবাবিল, চরবংশী, দক্ষিণ রায়পুর, চরপাতা ও মধ্য কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা জোবেদা খানম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। অফিস সহকারীর কাছ থেকে জেনে নেবেন।

তবে অফিস সহকারী বলেন, ম্যাডাম সব জানেন, আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের সুপারভাইজার রাশেদ আলম বলেন, কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্পটি গত ছয় মাস বন্ধ ছিল। তিন মাস আগে আবার চালু হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি শিশুদের খাবারসহ সব সেবা নিশ্চিত করতে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category