লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাদিয়া সুলতানা শারমিন কে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, সাদিয়া সুলতানা শারমিন ও তার স্বামীসহ একটি চক্র রায়পুরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে ফাঁদে ফেলতেন। পরে তাদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটকের চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ, পুরোনো ফ্রিজ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ফ্রিজ কেনাবেচা ও মেরামতের সঙ্গে জড়িত এক ব্যবসায়ীকে একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে তাকে জিম্মি করে গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদিয়া সুলতানা শারমিনসহ কয়েকজনকে আটক করে।
আটক সাদিয়া সুলতানা শারমিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লামছরি-সমসেরাবাদ এলাকার আলী আকবর গাজীর মেয়ে। তার স্বামী মো. মামুন হোসেন একই এলাকার মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে।
এদিকে, আটক সাদিয়া সুলতানা শারমিনকে আদালতে পাঠানোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। আদালতে জামিন পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়; মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে।