লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফেসবুকের বিভিন্ন ফেক আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জহির হোসেন ও তার পরিবার। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যার হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগও করেন তারা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাজিরদিঘীর পাড় বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহির হোসেন বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে বিভিন্ন ফেক আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জহির হোসেনের আরো বলেন, টিপুর ছেলে নুরনবীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ বা শত্রুতা নেই। প্রায় ২০ থেকে ২২ দিন আগে এলাকাবাসীর সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন তিনি। ওই সময় নুরনবীর কাছ থেকে প্রায় ২২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন জহির। পরে তাকে একটি কক্ষে রাখা হলেও সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন জহির।
তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন দিন আগে নুরনবীর কাছে আবারও ইয়াবা রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তল্লাশি করতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে পূর্বের ঘটনার জের ধরে নুরনবীর বাবা টিপু ও তার কাকা টুটুল তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের প্রতিহত করেন বলে জানান তিনি।
ওই ঘটনার পর থেকেই একটি পক্ষ ফেসবুকে বিভিন্ন ফেক আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই কি আমার অপরাধ?”
তিনি বা তার ছেলে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসা কিংবা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া ফেক আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন মানুষের সম্মানহানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে ন্যায়বিচার ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়ে জহির হোসেন বলেন, তিনি ইতোমধ্যে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় রায়পুর থানায় জিডি নং-১৫২০ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত নুরনবী, তার বাবা টিপু ও কাকা টুটুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।