লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে নৌকায় নিয়ে ধর্ষণ এবং পরে লোহার রড দিয়ে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম (২৮) রায়পুর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম প্রকাশ রহমত আলী (২৯) ও তার ছোট ভাই মো. মহিম (২৫) উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরঘাসিয়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম একই ইউনিয়নের চরবংশী এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে রুজিনা বেগম অভিযোগ করেন, আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার প্রায় তিন বছর আগে পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত মোবাইল ফোনে কথাবার্তা হতো। একপর্যায়ে আব্দুর রহিম তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিয়ের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বায়রা ঘাটসংলগ্ন চর এলাকার একটি নৌকায় ওঠেন তারা। পরে নৌকাটি নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এজাহারে আরও বলা হয়, নদীর মাঝখানে ভুক্তভোগী চিৎকার করলে নৌকাটি তীরে নিয়ে আসা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওই নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে রাতযাপন করেন।
পরদিন ১৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে অভিযুক্তের বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর জিম্মায় তাকে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর রাস্তায় তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং আব্দুর রহিম পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে অভিযুক্ত মহিম তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ঘর থেকে লোহার রড এনে তাকে মারধর এবং মাথার পেছনে আঘাত করার অভিযোগও করা হয়। এছাড়া দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তার মা ও বোন তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে মামলা করলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুজিনা বেগম বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন।
তবে অভিযুক্তদের দাবি, নৌকায় যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীর বাবা এসে তাকে মারধর করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।