লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি জায়গায় খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ৬১টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর ও সংলগ্ন সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব দোকান অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল এবং রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায়ীদের আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মাইকিং করে দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জায়গা খালি না করায় প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযান শুরুর পর দোকান মালিকরা দ্রুত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ দোকানের টিন ও কাঠ খুলে নিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যবসার পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, এসব দোকানের আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাদের পরিবারের জীবিকা চলত। কেউ কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। দোকান হারিয়ে তারা এখন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঋণ নিয়ে দোকান করেছি। দোকানের আয় দিয়েই সংসার চালাতাম এবং কিস্তি পরিশোধ করতাম। এখন দোকান নেই, আয়ও নেই। কীভাবে ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না।”
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের আপত্তি নেই। খাল খনন হলে এলাকার উপকার হবে। তবে যারা এখানে ব্যবসা করে পরিবার চালাত, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
ব্যবসায়ীরা আরও দাবি করেন, সরকারি জায়গা উদ্ধার করার পর যেন তা পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে নিয়ম অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।