• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রায়পুর এইচআরসি স্মার্ট স্কুলে ছবক প্রদান, দোয়া অনুষ্ঠান ও ফল উৎসব অনুষ্ঠিত রায়পুরে মানবেতর জীবনযাপন: জরাজীর্ণ ঘরে অসুস্থ স্ত্রী ও অন্ধ ছেলেকে নিয়ে চার সদস্যের পরিবারের আহাজারি ফলিত পুষ্টি জ্ঞান ও রন্ধন কৌশল সম্প্রসারণে স্মলহোল্ডার রেইঞ্জ প্রকল্পের ৯০ জন কৃষাণীকে প্রশিক্ষণ রায়পুরে হাঁটার পথ এখন বাজার ও পার্কিং, ঝুঁকিতে সড়কে পথচারীরা মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা নিয়ে রায়পুরে নাইট ফুটবল প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে রায়পুরে স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ রায়পুরে বিশেষ অভিযানে দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার জমি বিরোধের জেরে সীমানা দেয়াল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি রায়পুরে শিশু ফারাবি হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ রায়পুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন

রায়পুরে মানবেতর জীবনযাপন: জরাজীর্ণ ঘরে অসুস্থ স্ত্রী ও অন্ধ ছেলেকে নিয়ে চার সদস্যের পরিবারের আহাজারি

medianewsbd / ৪৭ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

“ক্ষুধার্তের নাই ধর্ম, নাই কোনো জাত,

মানবতার ধর্ম হলো বাড়িয়ে দেওয়া হাত”

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দমা নামক এলাকার বালাগ বাড়ী একটি অসহায় পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে চরম কষ্ট ও অভাব-অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারটিতে রয়েছেন বাবা-মা ও দুই ছেলে। নিত্যদিনের জীবনসংগ্রামে তাদের দিন কাটছে অনিশ্চয়তা আর বেদনার মধ্যে। ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘরে চার সদস্যের পরিবারের সংসার

পরিবারের প্রধান ইন্দ্র দেব মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। তবে নিয়মিত কাজ না থাকায় আয়ও অনিয়মিত। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে।

ইন্দ্র দেবের ছেলে রিপন ৫ বচর বয়সে কঠিন রাগাক্রান্ত তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যায়, এখন তার বয়স ৩০ বছর। মাঝে মাঝে রিপনকে নিয়ে সাহায্যের জন্য ঘুরতে হবে মানুষের ধার ধারে। ২৫ বছর ধরে অন্ধ রিপনকে নিয়ে বাবা ইন্দ্র দেবের কস্টের শেষ নেই।

ইন্দ্র দেব জানান, “মানুষের বাড়িতে রোজ কাজ করি, কিন্তু সবসময় কাজ পাওয়া যায় না। সংসারের খরচ চালাতে না পেরে মাঝেমধ্যে সাহায্যের আশায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়।”

পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে অসুস্থতার কারণে। কয়েক বছর আগে মা নন্দ রানী ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সারাদিন অসংলগ্নভাবে কথা বলেন। অপরদিকে ছোট ছেলে সুমনও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

পরিবারটির বসবাসের ঘরটিও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে। তখন দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

সোমবার (৮ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা ঘর, অসুস্থ পরিবারের সদস্য এবং অভাবের নির্মম বাস্তবতায় পরিবারটি যেন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার আশা খুঁজে পাবে।

এলাকাবাসী দ্রুত এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের হৃদয়বান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category