শিরোনাম:
রায়পুরে কেরোয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে নজরুল ইসলাম ও শাহ আলমের দলীয় মনোনয়ন জমা দুই এডভোকেটের মনোনয়ন জমা, দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চরপাতা বিএনপি শিশুর অপরাধ কী? কারাগারে কেটে গেল সাত বছরের শৈশব আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে: আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি আনন্দ-উৎসবে রায়পুর ১০নং ইউনিয়ন যুবদলের কর্মীসভা, ঢাকঢোল ও বর্ণাঢ্য মিছিলে প্রার্থীরা রায়পুরে নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া রায়পুরে দক্ষিণ চর আবাবিলে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমু‘র হোসেনের মনোনয়ন ফরম জমা রায়পুরে কেরোয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে জহির হাজীর মনোনয়ন জমা বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কেরোয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন মনিরুল হক সোহাগ রায়পুরে ১৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ড্রেন নিম্নমানে মরিচা ধরা রড ব্যবহারের অভিযোগ

শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতি, চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতির পথে মির্জা ফখরুল

medianewsbd / ১৩২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ। স্বাধীনতার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে মহাসচিব—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে তিনি।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। জাতীয় সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বঙ্গভবনে উঠবেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় আনন্দিত তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতির পদ অলংকৃত করবে, এটা শুধু আমার জন্য নয়; দেশবাসীর জন্যও গর্বের। তবে আমরা ঠাকুরগাঁওবাসী তাঁর নৈকট্য থেকে বঞ্চিত হব—এটা ভাবতে মন খারাপ লাগছে। তাঁর হাত ধরে এলাকায় যে উন্নয়নের কর্মধারা সৃষ্টি হয়েছে, তার গতি যদি শ্লথ হয়ে যায়, তা হবে আমাদের জন্য আশঙ্কাজনক।’

জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ছাত্ররাজনীতি

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, একাধিকবারের সংসদ সদস্য এবং পরে এরশাদ সরকারের মন্ত্রী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাঁকে কারাবরণও করতে হয়।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু

স্বাধীনতার পর মির্জা ফখরুল কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়ান।

পরবর্তীতে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে একসময় সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

পৌর চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় রাজনীতিতে

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর মির্জা ফখরুল প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব গড়ে তোলেন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান ঘটে। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেন মির্জা ফখরুল। তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে রাজপথের আন্দোলন, দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রাজপথের আন্দোলন থেকে সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চ, রাজনৈতিক মামলা থেকে কারাবরণ—দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির হয়ে সক্রিয় ছিলেন তিনি। দলের সংকটকালে সংগঠনকে ধরে রাখা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বঙ্গভবনের পথে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায়

ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূলের রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পথচলা দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা, সরকারি দায়িত্ব, পৌর চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সভাপতি, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব—একেকটি ধাপ পেরিয়ে এবার তাঁর সামনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা।

বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় শুরু হওয়ার অপেক্ষা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category