লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়পুর পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় রায়পুর পৌরসভার বর্তমান অবস্থা, নগর অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, ভূমি ব্যবহার, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, নাগরিক সেবা এবং ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব করতে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়।
কর্মশালায় পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছার, পৌরসভার সচিব মাসুদ মোর্শেদ, পৌর বিএনপি নেতা শফিকুল আলম আলমাস, আবু জাহের মিয়াজি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সেলটেক কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধি, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, রায়পুর একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। এর আয়তন ২ হাজার ৪৬১ দশমিক ১৭ একর বা প্রায় ৯ দশমিক ৯৬ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভায় রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৩৯ হাজার ৮০৯ জন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও নাগরিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রায়পুর পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসন, বাণিজ্যিক এলাকা, নাগরিক সুবিধা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও পরিকল্পিতভাবে করা সম্ভব হবে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মহাপরিকল্পনা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি বাস্তবায়নযোগ্য, জনবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি করার পাশাপাশি রায়পুরের ভৌগোলিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নাগরিকদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রায়পুর পৌরসভায় অপরিকল্পিত নগরায়ণের পরিবর্তে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।