লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের পর পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের পর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাকোপা এলাকার অজি উল্যা মাস্টার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী রেহানা আক্তারের দেবর মো. আলমগীর হোসেন বামনী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। এলাকায় কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটায় তাঁর নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকেরা রাতে পাহারা দিচ্ছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় যুবকেরা দুইজনকে আটক করে ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, ওই ঘটনার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় ৩০-৩৫ জন লোক লাঠি, লোহার রড, এসএস পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান। তাকে সেখানে না পেয়ে তারা রেহানা আক্তারের বসতঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা রেহানা আক্তার ও তাঁর ছেলেকে মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এক ব্যক্তি তাঁর পরিহিত কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মামলা করলে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, একই এলাকায় সুপারি চুরির সন্দেহে সাইয়েদ নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। তারা ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।